হারান হাজরা

 হারান হাজরা

 

লন্ডনের ফ্লাইটটা প্রায় দুঘন্টা দেরিতে এলো আজ  হাতঘড়িটা দেখলেন অনিমেষ । সকাল ছটা । লাগেজ নেওয়ার জন্য কয়েক মিনিটের অপেক্ষা । এয়ার পোর্টে গাড়ি পাঠাতেও বারণ করেছেন, ট্যাক্সি নিয়েই চলে যাবেন । আসলে কয়েক ঘন্টার জন্য আসা  আজরাতের ফ্লাইটেই যেতে হবে আবুধাবি । ট্যাক্সিস্ট্যান্ড থেকেই কয়েকটা বাংলা খবরের কাগজ কিনে ট্যাক্সিতে চাপলেন ।

 

ডাক্তার অনিমেষ দত্ত , বেশ ব্যস্ত মানুষ । নামি সার্জেন , নিজের একটা নার্শিং হোম আছে কলকাতা থেকে একটু দূরে বারাসাতে । জটিল অপারেশনের জন্য অনিমেষের বেশ নামডাক । কয়েক বছর হ, কলকাতার হৈ-হট্টগোল থেকে দূরে বারাসাতেই একটা চার কামরার ফ্যাটে চলে এসেছেন । একমাত্র ছেলে আমেরিকায় পড়াশোনা করছে । শুধু স্ত্রী মাধুরীই জানতেন অনিমেষ আজই ফিরছেন কয়েক ঘন্টার জন্য । স্ত্রী মাধুরীও কাল চেন্নাই চলে যাবে ছোট বোনের কাছে । অনিমেষ সেরকম ব্যবস্থাই করে রেখেছেন ।

 

ফ্ল্যাটে ঢুকে এককাপ কফি নিয়ে বসার ঘরে এলেন । গত দুতিন দিনের কাগজগুলো পড়া দরকার । আরাম কেদারায় গা এলিয়ে দিলেন অনিমেষ । বিমান যাত্রার ধকল , রাত্রে প্রায় ঘুম হয়ইনি । কতক্ষণ গা এলিয়ে আছেন খেয়াল নেই । হঠাত ঘরে হাজির পুলিশ অফিসারের পোষাকে কে একজন । খুব ক্ষিণ চেনা চেনা লাগছে । গুড মর্নিং ডাঃ দত্ত, আমি হারান হাজরা , এখানকার ওসি , কয়েকটা কথা জানার ছিল ...বিরক্ত অনিমেষ বলে দেখুন অফিসার, আমি এইমাত্র ফিরলাম , আপনি যদি...অনিমেষকে শেষ করতে না দিয়েই হারান বলে জানিতো স্যার আপনার ফ্লাইট আজ দু ঘন্টা লেট করেছে । এয়ার ট্রাভেলও ট্রেণের মত হয়ে গেছে আজকাল, কি বলেন ?’  বলেই হাসলো এক অদ্ভুত স্বরে । এবার হারানের হাসিটা যেন কেমন চেনা চেনা লাগল, মনে করতে চেষ্টা করল অনিমেষ । বললো আমি খুব ক্লান্ত অফিসারএবার একটু রুক্ষ হারান, বলে পুলিশতো আপনার নার্শিং হোমের ডাক্তার নয় স্যার যে আপনি ঠিক করে দেবেন কোন রোগীর কবে অপারেশন হবে

অনিমেষ দৃশ্যত শান্ত । রাগের প্রকাশ নেই । রাত্রি ৯টায় ফ্লাইট । তারপর...  অনিমেষ বলে আপনি বরং কাল আসুন অফিসার, এনি টাইম অ্যাট ইওর কনভিনিয়েন্ট । সেই বিশ্রী হাসি হেসে হারান বলে ইয়ার্কি মারছেন স্যার ! কালতো আপনার  এই সময় ফ্লাইট নম্বর থ্রী টু সিক্স ওয়ানএ সিট নম্বর থ্রীবি তে সিটবেল্ট বেঁধে বসে থাকার কথা’ ! অনিমেষ বুঝতে পারল হারান হাজরা সুবিধের লোক নয় , বলে বেশ বলুন

-        ডাঃ দত্ত , আপনি বিন্দিয়া নামে একটা মেয়েকে চিনতেন ? বয়স বছর ষোল সতেরো হবে ।

-        না তো । কিন্তু তার সঙ্গে আমার কি সম্পর্ক ?

-        একটু মনে করার চেষ্টা করুন । তিনবছর আগে জামালপুর স্টেশন থেকে মেয়েটাকে নিয়ে এসেছিলেন । তারপর আপনার ঘরে কাজের মেয়ে হিসাবেই ছিল মাস তিনেক  

-        হতে পারে । আমার মনে নেই । কি করেছে মেয়েটি ?

-        না , কিছুই করেনি , আর করবেও না । তা সেই মেয়েটি গেল কোথায় মিঃ দত্ত ? আপনার ঘরেতো মাস তিনেক কাজ করেছিল ? তারপর ?

-        তা করেছিল , তারপর চলে গেছে এইটুকুই বলতে পারি 

-        বাঃ , ফাইন ! জামালপুর থেকে সঙ্গে করে আনলেন , ঘরের কাজে লাগালেন , তারপর আর খবর রাখলেননা ?

-        কাজের মেয়েরা এরকমই হয় , কাজের মেয়েরা বেশিদিন টেকেনা ।

 

কথাটা যেন লুফে নিলেন হারান হাজরা , ‘একটু ভুল বললেন স্যার, বলুন কেউই টেকেনা । আর এখান থেকেইতো আমার গল্পটার শুরু  আবার সেই গা জ্বালানো হাসি । হারান বলে চলে – ‘ওয়েল। আমার জিজ্ঞাসা আপাতত শেষ । আপনার কাল রাত নটার ফ্লাইট তো ? হ্যাঁ , ভালো কথা সেইবিন্দিয়া নামের মেয়েটা মারা গেছে মাস তিনেক আগে । বডি পাওয়া যায়নি , আশা করছি পেয়ে যাবোএকটু চমকে উঠলেন অনিমেষ । বডি পাওয়া যায়নি , আবার বলছে পেয়ে যাবে ! দরজা বন্ধ করার একটা জোর আওয়াজে সচকিত হলেন অনিমেষ । হারান চলে গেছে ।  হারান হয়তো একটু জোরেই দরজাটা বন্ধ করেছিল  ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিল অনিমেষ । খবরের কাগজটা কোল থেকে নীচে পড়ে গেছে, প্রথম পৃষ্ঠার বড় বড় অক্ষরে একটা খবরের হেডিং বেশ পড়া যাচ্ছে 

 

অনিমেষ প্রথমেই কাজের মেয়েটিকে ডেকে ধমক দিলেন , কেন তাকে খবর না দিয়ে হারানকে সরাসরি তা্র ঘরে পাঠিয়ে দিল । স্ত্রী মাধুরী চেঁচামেচি শুনে ছুটে এলো জানতে চাইলো কি ব্যাপার ? বিরক্ত অনিমেষ বলে একজন পুলিশ অফিসার সোজা আমার ঘরে চলে এলো কি করে ? তাকে বাইরের ঘরে বসিয়ে আমাকে খবর দিতে পারতে তো । সব নিয়ম কানুল বদলে গেল নাকি ?’ মাধুরী আকাশ থেকে পড়েন, বলেন পাগল হয়ে গেলে নাকি ? এখনো বাইরের কোলাপসিবল গেট তালা বন্ধ, পুলিশ অফিসার কি পাচিল ডিঙ্গিয়ে আসবে নাকি ?’ অবাক হন অনিমেষ তাহলে সত্যিই স্বপ্ন দেখেছেন । কিন্তু হারান হাজরার প্রতিটি বাক্যইতো মনে আছে , এমনকি তার গা জ্বালানো হাসিটাও ।

 

অনিমেষ বন্ধু সঞ্জয় সেনকে ফোন করে । সঞ্জয় এখানকার থানার ওসি কি বদলি হয়ে গেছে ? হারান হাজরা নামে কাউকে চিনিস নাকি ? এখানে থানার ওসি হয়ে এসেছে ? সঞ্জয় জানাল নাতো বিশ্বজিত চাকলাদারইতো আছে , গতকালইতো দেখা হলো । খুব টেন্সড , কি একটা কেসএ ওপরের নাকি দারুণ চাপ । তা কি ব্যাপটা, সাত সকালে পুলিশের খোঁজ নিচ্ছিস’ ? ‘না,এমনি, পরে বলবোবলে ফোনটা রেখে দিল অনিমেষ ।

 

        অনিমেষ একবার ভাবলো পাড়ার ছেলেদের কাউকে জিজ্ঞাসা করে । তারপর ভাবলো, না ওদের অনাবশ্যক কৌতুহল হতে পারে , বলতে পারে কি হয়েছে স্যার ? চাঁদা চেয়েছে ? ডিটার্ব করেছে ? একবার বলুন স্যার, আমরা ঠিক খুঁজে বের করে থোবড়া পালটে দেবোপাড়ায় অনিমেষের যে খুব একটা পরিচিতি আছে তা নয় । তবে দুর্গা পুজো কালিপূজোয় মোটা অঙ্কের চাদা দেয় তাতেই খুশি । কিসের ডাক্তার, কোথায় ডাক্তারি করেন এসব জানার আগ্রহ তাদের বিশেষ থাকেনা । এবার কালিপূজোয় বস্ত্র বিতরণের অনুষ্ঠানে থাকার জন্য পাড়ার ছেলেরা ধরেছিল । অনিমেষ জানিয়েছিল না ভাই ঐ সময় আমি সিঙ্গাপুরে থাকবো একটা সেমিনার আছেঅবশ্য এ জন্য ত্রিশ হাজার টাকার একটা চেক দিয়েছিল, ছেলেরা তাতেই খুশি ।

 

        অনিমেষ মহীতোষ নন্দীকে ফোন করলো । মহীতোষ এ আঞ্চলের বেশ কেউকেটা লোক, প্রভাবশালী রাজনীতিক । সে নাকি অনেক বিশ্বজিৎ চাকলাদার , হারান হাজরাদের মত লোককে পকেটে রাখার ক্ষমতা রাখে  বয়সে প্রায় সম বয়সী হলেও অনিমেষ ওকে দাদা বলে । জিজ্ঞাসা করল মহীতোষদা, হারান হাজরা নামে কোন পুলিশ অফিসারকে চেনেন’ ? মহীতোষ জানাল, ‘বিলক্ষণ চিনি , বছর পাঁচেক আগে বিশ্বজিতের আগে হারানইতো এখানে ছিল, এখন বোধহয় প্রোমশনে লালবাজারে  পোষ্টেড  তোমার মনে নেই ডাক্তার, কালো ছিপছিপে ধরণের একটা ছোকরা , বিচিত্র ভঙ্গিতে হাসে ...তুমিতো আমার সঙ্গে একবার থানায় গিয়েছিলে কি একটা কাজে..., তা হঠাত হারানের খোজ কেন, এনি প্রবলেম’ ? ‘ না না তেমন কিছু নয়বলে ফোনটা রেখে দিল অনিমেষ । এইবার মনে পড়ে গেল, সেদিনের সেই কালো ছিপছিপে ছোকরাটা আর হারানের হাসি একই রকম । ছোকরাটা সেদিন জিজ্ঞাসা করেছিল আচ্ছা স্যার, মানুষের দেহের কোন অঙ্গটা সবচেয়ে দামি, কিডনি নাকি মরে যাওয়ার পর তার পুরো কঙ্কালটা ?’

 

অনিমেষ আপ্রাণ চেষ্টা করছে স্বাভাবিক হবার । আসলে একটু আগে দেখা স্বপ্নটা ওকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে । নিশ্চিত ওটা স্বপ্নই । কিন্তু হারান হাজরা ওর স্বপ্নে হাজির হল কেন ? সেতো অস্তিত্বহীন নয় ! দুপুরে খাওয়ার টেবিলে স্ত্রী মাধুরীকে জিজ্ঞাসা করলো, বিন্দিয়া নামে সেই কাজের মেয়েটাকে তার মনে আছে কিনা । মাধুরীর মনে আছে, মাস তিনেক মাত্র কাজ করেছিল । বললো হ্যাঁ হ্যাঁ মনে আছেতো  বেশ ঠান্ডা মেয়ে ছিল ,তবে মানসিক ভারসাম্য একটু কম ছিল, মাঝে মাঝে একা একা কাঁদত । তা তুমিইতো ওর বাবা মার সন্ধান পেয়েছো বলে ওকে ওর দেশের বাড়িতে রেখে এলে । মাধুরী একটু অবাক হল। এতোদিন পরে সেই মেয়েটার কথা জিজ্ঞাসা করছে কেন অনিমেষ ! আশেপাসে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে মাধুরীর তেমন কৌতুহল কোনদিনই ছিলনা । আর এখনতো মেয়েদের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার মিছিল মানুষকে উত্তেজিতও করেনা একটুও !

 

নিশ্চিত হয়ে অনিমেষ বসার ঘরে গিয়ে কয়েকটা ফোন করল । অনেক কাজ , সময় কম । কাজের মেয়েটাকে বলে দিল, ‘আমাকে না জিজ্ঞাসা করে কাউকে এঘরে পাঠাবিনা । শুধু অভিমন্যু সামন্ত এলে আমার ঘরে পাঠিয়ে দিবিঅভিমন্যু সামন্ত এ বাড়িতে অপরিচিত নয়, মাঝে মাঝেই আসে  তার সঙ্গে অনিমেষের কি সম্পর্ক মাধুরীও জানেনা । মাধুরী জানে অভিমন্যু অনিমেষের নার্শিংহোমের কোন কর্মচারী হবেওবা । আসলে অভিমন্যু এখানে একটা মেয়েদের উদ্ধার আশ্রমের কাজকর্ম দেখাশোনা করে । গতবছরেই বোধয় , মাধুরী খরের কাগজে দেখেছিল অভিমন্যুদের উদ্ধার আশ্রম থেকে দুটো মেয়ে নাকি পালিয়ে গিয়েছিল ।

 

মিনিট পাঁচেক পরে দরজায় টোকা দিয়ে ঘরে ঢুকল অভিমন্যু সামন্ত । মুখ তুলে একঝলক দেখে নিয়ে খবরের কাগজে মুখ নামালেন অনিমেষ । বললেন তা চক্রব্যুহ থেকে বেরোতে পারবে, অভিমন্যু সামন্ত’ ? থতমত খেয়ে যায় অভিমন্যু । এবার অভিমন্যুর দিকে চেয়ে বললো গুপীনাথকে হোমে খাবার সাপ্লাইএর বরাতটা তুমিইতো দিয়েছিলে’ ? অভিমন্যু ঘাড় নাড়ে । অনিমেষ বলে বেশ । তা গুপীনাথ হোমের অফিস ঘরে মদের আড্ডা বসাবে , মেয়েগুলোকে রেপ করবে এই বরাতটাও কি তাকে তুমি দিয়েছিলে’ ? আভিমন্যু স্থির । কয়েক মুহুর্ত পরে বলে বাবাকে কাল রাত্রে তুলে নিয়ে গেছে স্যারঅনিমেষ বিচলিত হল কিনা বোঝা গেলনা , বলে তাতো যাবেই, যুধিষ্ঠীরইতো সবার আগে স্বর্গে গিয়েছিল’ ! অভিমন্যু সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয় হ্যাঁ স্যার, একটা কুকুর নাকি তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, সত্যি নাকি স্যার ?’ অনিমেষ অভিমন্যুর কথা গায়ে মাখলো কিনা বোঝা গেলনা ।

 

অভিমন্যুর বাবা যুধিষ্ঠীর সামন্তই হোমের সুপারিন্টেনডেন্ট । বয়স হয়েছে । ছেলে অভিমন্যুই কাজকর্ম দেখাশোনা করে । অভিমন্যু করিৎকর্মা, পাড়ার নেতাদেরও কাছের ছেলে । অনিমেষ নিজেকে একটু নিশ্চিন্ত বোধ করেছিল। কাগজে-কলমে হোমের মালিক মল্লিকা রাধাকৃষ্ণাণকেতো আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা ! ঘড়ি দেখল অনিমেষ , পৌনে ছটা বাজে । ছটার মধ্যে যাদের আসার কথা তারা এসে যাবে । তারপর রাত্রি সাড়ে নটায় আবুধাবির ফ্লাইট । এক বান্ডিল নোট অভিমন্যুর হাতে গুঁজে দিয়ে বলল, ‘তুমি কিছুদিন দেশের বাড়ি ঘুরে এসো অভিমন্যুইতিমধ্যে অভিমন্যুর কাছ থেকেই জেনে গেছে অনিমেষ দিশারি উদ্ধারাশ্রমের মাটি খুড়ে উদ্ধার হয়েছে ৬টি নরকঙ্কাল !

 

সন্ধ্যা ছটার আগেই একে একে এসে গেলেন অনিমেষের নার্শিং হোমের সুপার ডাঃ কুজুর, অস্থি বিশেষজ্ঞ ডাঃ সৌমেন অগ্নিহোত্রী, দিশারি উদ্ধারাশ্রমের ডাক্তার ক্ষেত্রপাল, আর নামি ঠিকাদার ভারু এন্ড এসোসিয়েটের রাম প্রতাপ ভারু । ডাঃ ক্ষেত্রপাল ও অগ্নিহোত্রী বেশ উত্তেজিত । ঘরে ঢুকেই বললো আপনার একটা ভুল আমাদের সবাইকে ফাঁসিয়ে দিল ডাঃ দত্ত । অনেকবার আপনাকে বলেছিলাম অভিমন্যুটাকে তাড়ান, শুনলেননাডাঃ ক্ষেত্রপাল বেশ উত্তেজিত স্বরে বললো গুপীনাথ ওই বোবা মেয়েটাকে রেপ না করলেতো কোন ঝামেলাই হতনা , আর আপনারই কাছের ছেলে অভিমন্যুই গুপীনাথকে হোমে ঢুকিয়েছিলডাঃ অগ্নিহোত্রী বললেন আমি আপনাকে বলেছিলাম ডাঃ দত্ত, কিডনি পর্যন্ত ঠিক আছে কঙ্কালের ব্যাপারটা করবেননা । বিধ্বস্ত অনিমেষ শুধু শুনলেন, শান্ত স্বরে রামপ্রতাপ ভারুকে জিজ্ঞাসা করলেন কেসটা কে দেখছে , বিশ্বজিৎ চাকলাদার ? ভারু জানাল মাথা খারাপ স্যার ? এ কেস বিশ্বজিতের কাছে থাকে ? কেস এখন লালবাজারে , এসিস্ট্যান্ট ডেপুটি কমিশনার গোয়েন্দা, হারাণ হাজরার টেবিলেহারান হাজরার নামটা শুনে চমকে উঠলেন অনিমেষ ভোর বেলায় দেখা স্বপ্নটা মনে পড়লো ।

 

ওদের উত্তেজিত কথাবার্তার মাঝে মাধুরী কখন এসে দাঁড়িয়েছে খেয়াল করেনি কেউ । অনিমেষ জানতে চাইলেন কি ব্যাপার তুমি ? কিছু বলবে’ ? মাধুরীর ছোট্ট উত্তর না শুধু জানতে চাইবো ছোট বোন মল্লিকাকে এই নরকে টেনে আনলে কেন ? ও তো কোন দোষ করেনি ! আমাকে দিয়ে ওর নাম সই করিয়ে ... ছিঃ ছিঃ’ ! সকলেই নিঃস্তব্ধ । একটা ফোন এলো । ওপারের কন্ঠ শুনে অনিমেষ চিৎকার করে উঠলেন হোয়াট’ ? মেঝেতে আলপিন পড়ার শব্দও শোনা যাবে । ওপারের কন্ঠ বেশ শোনা গেল ইয়েস স্যার, ফ্লাইট নম্বর থ্রি টু সিক্স ওয়ানএ আপনার বুকিং ক্যানসেল করা হয়েছে । কলকাতা পুলিশ একটা লুক আফটার নোটিশ পাঠিয়েছেফোনটা ক্রেডলে রাখতেও পারলেননা অনিমেষ , পড়ে গেল । কারো মুখে কথা নেই । ডাঃ কুজুররা ওঠার তোড়জোর করছেন । কলিং বেল বাজলো । মাধুরী সদর দরজা খুলে আগন্তুককে বসার ঘরটা দেখিয়ে দিলেন ।

 

ছজন মানুষ বসার ঘরের দরজার দিকে তাকিয়ে । দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়েই আগন্তুক পরিচয় দিলেন লালবাজার থেকে আসছি , আমি হারান হাজরা !

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বাংলা গানের সেকাল একাল : পর্ব ১৬

  অন্য ধারার গান : গণসঙ্গীত ও সলিল চৌধুরী     গত শতকের চল্লিশের দশকে গণনাট্য আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আর একটি সঙ্গীতধারা সমৃদ্ধ করেছিল বাংলা কা...