কথা কলকাতা - ১
সুতানুটি - মোট জমি ১৬৯২ বিঘা । তারমধ্যে ১৫৫৮বিঘা ছিল
জঙ্গল ও ধানক্ষেত । গোবিন্দপুর – মোট জমি ১১৭৮ বিঘা । তারমধ্যে ১১২১ বিঘা ছিল ঘোর
জঙ্গল । কলকাতা - দুভাগে
ভাগ করা হয়েছিল (১) বাজার কলকাতা – মোট জমি ৪৮৮ বিঘা, তারমধ্যে
পতিত জমি চিল ৮৮ বিঘা । (২) ডিহি কলকাতার মোট ১৭৭৮ বিঘা জমির মধ্যে ১৪৭০ বিঘা
ক্ষেত ও পতিত জমি । তো, তিনটি গ্রাম যা নিয়ে কলকাতা, তার
মোট ৫০৭৬ বিঘা জমির মধ্যে ১৫২৫ বিঘায় ছিল ধানক্ষেত, ৪৮৬
বিঘায় ছিল বাগান । ঐ সনের জরিপ অনুযায়ী তখন মাত্র দুটি ‘স্ট্রীট’ ও
দুটি ‘লেন’ ছিল ।
আরো ২০ বছর পরে দ্বিতীয় জরিপ হয়, তখন ‘স্ট্রীট’এর
সংখ্যা হয় ৪, ‘লেন’ ৮ । আরো ১৬ বছর পরের, ১৭৪২এ
তৃতীয় জরিপে দেখা যায় কলকাতার স্ট্রীটের সংখ্যা- ২৭, ‘লেন’- ৫২, বাইলেন-৭৪
। ১৭৫৬ পর্যন্ত কলকাতায় একটিও বড় রাস্তা বা’রোড’ ছিল
না । ১৭৯৯এ কলকাতায় প্রথম চওড়া বড় রাস্তা হয় ‘সার্কুলার
রোড’ – ইট ভাঙ্গা খোয়া দিয়ে । তখন থেকে কলকাতায় ঘোড়ার গাড়ি
চলা শুরু হয় । তার আগে পর্যন্ত কলকাতায় স্থল যান বলতে ছিল মানুষ টানা পালকি ।
ঘোড়ার গাড়ির চল হওয়া শুরুহলেও তা ছিল সাহেবদের ব্যবহার্য ।
এদেশীয় মানুষ পালকিই ব্যবহার করতেন । ইউরোপীয়রাও পালকিতে যাতায়াত করত । জানা যায়
ডেভিড হেয়ার কোনদিন ঘোড়ার গাড়ি চড়েন নি, বরাবর
পালকি ব্যবহার করতেন । অভিজাত জমিদারদের নিজস্ব পালকি থাকতো, পালকি
ভাড়াও পাওয়া যেত । পালকি বেহারা মাইনা পেত ৫টাকা মাসে । ভাড়া করা পালকির খরচ ছিল
পালকি ও পাঁচ জন বেহারার মজুরি মিলিয়ে দিনে একটাকা চারআনা ।
কলকাতার নগরায়ন শুরু হয়েছিল পলাশীর যুদ্ধের পর । কোম্পানীর
শাসনের কাজ চালানোর জন্য যেটুকু তাদের দরকার ছিল । মুর্শিদাবাদের নবাবের কোষাগার
লুঠকরা অর্থে কোম্পানীর ছোট বড় সাহেবরা আর তাদের পদসেবা করা দেশী বেনিয়া, মুৎসুদ্দিরা
যেন এক একজন নবাব হয়ে গেলেন, বিলাসীতায় গা ভাসালেন । কলকাতা বাড়তে আরম্ভ করলো উনিশ
শতকের গোড়া থেকে ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন