কথা কলকাতা - ১

 কথা কলকাতা - ১

 ১৬৯৮  খৃষ্টাব্দের ১০ই নভেম্বর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বেহালার সাবর্ণ চৌধুরীদের কাছ থেকে তিনটি গ্রাম সুতানুটি,কলকাতা গোবিন্দপুর কিনে নিয়েছিল ১৩০০টাকার বিনিময়ে । ‘শহর কলকাতা’র পথচলা অতয়েব শুরু হয়েছিল সেদিন থেকে । কিন্তু প্রকৃত অর্থে কলকাতার নগরায়ন শুরু হয় পলাশির যুদ্ধের পরে (১৭৫৬) । নতুন একটা শহরের পত্তন তো হ’ল, কিন্তু কেমন ছিল সেই আদি কলকাতার চেহারাটা ? কলকাতা পত্তনের ১৬ বছর পরে অর্থাৎ ১৭০৬ খৃষ্টাব্দে যে তিনটি গ্রাম নিয়ে কলকাতা হ’ল, সেই তিনটি গ্রামের জমি,বাড়ি রাস্তা ইত্যাদির একটা জরীপ হয়েছিল । সেই জরিপ অনুযায়ী  সাবেক কলকাতার অবস্থা ছিল এই রকম –

সুতানুটি - মোট জমি ১৬৯২ বিঘা । তারমধ্যে ১৫৫৮বিঘা ছিল জঙ্গল ও ধানক্ষেত । গোবিন্দপুর – মোট জমি ১১৭৮ বিঘা । তারমধ্যে ১১২১ বিঘা ছিল ঘোর জঙ্গল । কলকাতা -  দুভাগে ভাগ করা হয়েছিল (১) বাজার কলকাতা – মোট জমি ৪৮৮ বিঘা, তারমধ্যে পতিত জমি চিল ৮৮ বিঘা । (২) ডিহি কলকাতার মোট ১৭৭৮ বিঘা জমির মধ্যে ১৪৭০ বিঘা ক্ষেত ও পতিত জমি । তো, তিনটি গ্রাম যা নিয়ে কলকাতা, তার মোট ৫০৭৬ বিঘা জমির মধ্যে ১৫২৫ বিঘায় ছিল ধানক্ষেত, ৪৮৬ বিঘায় ছিল বাগান । ঐ সনের জরিপ অনুযায়ী তখন মাত্র দুটি ‘স্ট্রীট’ ও দুটি ‘লেন’ ছিল ।

আরো ২০ বছর পরে দ্বিতীয় জরিপ হয়, তখন ‘স্ট্রীট’এর সংখ্যা হয় ৪, ‘লেন’ ৮ । আরো ১৬ বছর পরের, ১৭৪২এ তৃতীয় জরিপে দেখা যায় কলকাতার স্ট্রীটের সংখ্যা- ২৭, ‘লেন’- ৫২, বাইলেন-৭৪ । ১৭৫৬ পর্যন্ত কলকাতায় একটিও বড় রাস্তা বা’রোড’ ছিল না । ১৭৯৯এ কলকাতায় প্রথম চওড়া বড় রাস্তা হয় ‘সার্কুলার রোড’ – ইট ভাঙ্গা খোয়া দিয়ে । তখন থেকে কলকাতায় ঘোড়ার গাড়ি চলা শুরু হয় । তার আগে পর্যন্ত কলকাতায় স্থল যান বলতে ছিল মানুষ টানা পালকি ।

ঘোড়ার গাড়ির চল হওয়া শুরুহলেও তা ছিল সাহেবদের ব্যবহার্য । এদেশীয় মানুষ পালকিই ব্যবহার করতেন । ইউরোপীয়রাও পালকিতে যাতায়াত করত । জানা যায় ডেভিড হেয়ার কোনদিন ঘোড়ার গাড়ি চড়েন নি, বরাবর পালকি ব্যবহার করতেন । অভিজাত জমিদারদের নিজস্ব পালকি থাকতো, পালকি ভাড়াও পাওয়া যেত । পালকি বেহারা মাইনা পেত ৫টাকা মাসে । ভাড়া করা পালকির খরচ ছিল পালকি ও পাঁচ জন বেহারার মজুরি মিলিয়ে দিনে একটাকা চারআনা ।

কলকাতার নগরায়ন শুরু হয়েছিল পলাশীর যুদ্ধের পর । কোম্পানীর শাসনের কাজ চালানোর জন্য যেটুকু তাদের দরকার ছিল । মুর্শিদাবাদের নবাবের কোষাগার লুঠকরা অর্থে কোম্পানীর ছোট বড় সাহেবরা আর তাদের পদসেবা করা দেশী বেনিয়া, মুৎসুদ্দিরা যেন এক একজন নবাব হয়ে গেলেন, বিলাসীতায় গা ভাসালেন । কলকাতা বাড়তে আরম্ভ করলো উনিশ শতকের গোড়া থেকে ।

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বাংলা গানের সেকাল একাল : পর্ব ১৬

  অন্য ধারার গান : গণসঙ্গীত ও সলিল চৌধুরী     গত শতকের চল্লিশের দশকে গণনাট্য আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আর একটি সঙ্গীতধারা সমৃদ্ধ করেছিল বাংলা কা...